উদ্দোক্তা হবার জন্য আপনি কোন কাজটি বাছাই করবেন?

আপনি ব্যবসা করতে পারেন বা কৃষি বা ফার্ম ব্যবস্থাপনা করে আত্ম নির্ভরশীল হতে পারেন। মনে একটি কথা সর্ব সময় গেথেঁ রাখবেন লোকর কথা, লোকে বিভিন্ন ভাবে উক্তি বা কোটুক্তি করবে তা ভেবে থেমে গেলে চরবেনা। কেউতো আপনার বেকার জীবনকে কর্ম জীবনে রূপ দিয়ে দিবেনা। কেউ আপনাকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করছেনা কিন্তু আপনি একটা কাজ করলে পাড়ার লোকজন আপনাকে প্রথমে নিন্দা করবে এটাই স্বাভাবিক। কথায় চিড়া ভিজেনা এত দিনে হয়তো তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। কথায় বলে টাকাই কি সবকিছু, আমি বলি হ্যা, টাকাই সব কিছু। আপনার কাছে কেউ টাকা পেলে সে আপনাকে ডেকে চা নস্তা করাবেনা নিশ্চই বরং বিভিন্ন ধরনের মানুষিক টর্চার করায় ব্যস্থ রাকবে। মানষিক ভাবে আপনাকে বিধ্বস্ত করে দিতে থাকবে। তাই সবার আগে দরকার টাকার ব্যবস্থা করা। আর ঐ সকল লোকদের কে নিয়ে কবি লিখে ছিলেন-
করিতে পাড়িনা কাজ, সধাভয় সদা ভয়, সদা লাজ
পাছে লোকে কিছু বলে।
পাছে লোকে অনেক কাথাই বলবে তা শুনে থেমে থাকলে আপনার নিজেরই সমস্যা বাড়বে তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া অতিবো জরুরী। এখন কাজের কথায় আসি, আকামা প্যাচাল বহুত পোডলাম। আমরা বিশেষ করে তরুনরা ব্যবসায় বেমানান, ব্যবসায় বসে থাকা মারামাল আনা নেয়া অত্যান্ত জামেরার তাই এমন ব্যবসা ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বাবুয়ানা ডং থাকে আর পকেটটাও একটু ভাড়ি থাকে। ভাবছেন এমন ব্যবসা কোথায় পাবেন? হ্যা আছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা যেমন ধরুন কম্পিউটারের দোকান- স্টুডিও, কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোকপিয়ার, সাউন্ড সিস্টেম ও মাইক সার্ভিস, নাইট লাইট ও লাইটিং, কসমেটিক্স ও ফর্মেসির ব্যবসা করতে পারেন। এ ব্যবসা গুলোর মনা সর্বত্রই ভালো এবং সম্মানের। যারা সব সময় নেটে থাকতে পছন্দ করেন তার আউট সোসিং বা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। সকল বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তি পোষ্টে আপলোড করা হবে।

তাছাড়া যারা ব্যবসা পছন্দ করেননা তার কৃষির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করতে পারেন যেমন- ফলের বাগান, সব্জি চাষ, মাছ চাষ, মুরগী পালন, কবুতর পালন, কোয়েল পালন, মাশরুম চাষ, নার্সারী ইত্যাদি। কাজের কোন শেষ নেই যা খুব সহজে করা যায় তাই উল্লেখ করলাম। কৃষি কাজের জন্য বাড়ির আসেপাশে পতিত জমি কাজে লাগাতে পারেন। যাতে করে পারিবারিক প্রতিদিনের কাচা বাজারের ঝামেল লাগব হবে। আর এত খুব বেশি খরচ করতে হয়না। সমাস্য খরচ আর নিজের পরিশ্রমই আপনাকে লাভোবান করবে। সঠিক স্থান ও সঠিক সময় নির্বাচন করে নিয়ম মেনে চাষ করতে পারলে অবশ্যই কৃতকার্য হবেন বলো আশা করি, ইন্স আল্লাহ্।

পরবর্তি পোষ্টে বিভিন্ন কাজের উপরে আলাধা-আলাধা টোপিক নিয়ে লেখাহবে , এ পর্যন্ত সকলের মঙ্গল ও সার্বিক উন্নতি কামনা করি। আমার জন্য দোয়া করবেন।

একজন উদ্দোক্তা এর উত্থান-পতন

ঘটনা ২০১২ সালের। হঠাত খুব ইচ্ছে জাগে নিজের ডিজাইন করা টিশার্ট গুলো কে প্রিন্ট করে পরার। কয়েকটা অনলাইন ব্র্যান্ড এর সাথে যোগাযোগ ও করলাম। অথচ তারা যে প্রাইস বলল তা আমার দ্বারা বহন করা সম্ভব ছিল না।

একটা সময় তারা পাত্তা ও দিচ্ছিলো না। সেই থেকেই জিদ করলাম। যে নিজেই কিছু একটা করবো।
কিছু বন্ধুদের সাথে কথা বললাম এ ব্যাপারে যে কি করা যায়। পরিকল্পনা শুনে প্রথম বার ওরা রাজী হলো না। তখন ভেবে নিলাম একাই করবো কিছু একটা। যাই হোক। পরে পরিকল্পনা টা আরো দৃঢ় করলাম। এবার আবার ওদের বললাম এবার ওরা রাজি হয়ে গেলো।

সবাই ১০০০ টাকা করে দিল। ৮ জন সদস্য এর মধ্যে ২ জন দিতে পারলো না। বাকী টা আমি দিলাম, পুজি মাত্র ১৫০০০ টাকা।

ডিজাইন আমার করা ছিলো। ফেইসবুক থেকে পরিচয় হওয়া এক বড় ভাই প্রথমে ব্যাপক সাহায্য করলেন। যা অকথ্য। তিনি একটা প্রিন্টিং আর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী যোগার করে দিলেন। স্যাম্পল দেখে ভালো লাগলো। তাই কাপড় কিনে নেমে পড়লাম। প্রায় ২৫ কেজি কাপড় কিনলাম ব্ল্যাক আর হোয়াইট এর। কিন্তু কাপড়টা খারাপ ছিলো না যদিও তারপর ও অনেক কাপর নষ্ট হলো। কাপড় এর মাঝে অনেক গুলো অংশ গোল চাক্তির মত করে কাটা ছিল। মাত্র ৮৮ টা টিশার্ট হলো। তার মধ্যে একটা চুরি গেলো। তার মধ্যে অনেক গুলা মানে ২০+ টিশার্ট নষ্ট হয়ে গেলো। প্রিন্ট জনিত কারনে। অগুলা এখনও পরে আছে। বিক্রি করি নি।

যাই হোক, তারপর থেকে শুরু, ভালো ফিডব্যাক পেলাম। এখনি.কম এর সাথে ডিল হয়ে গেলো। এর পরের বার কাপড় ইন্ট্যাক্ট কিনলাম গার্মেন্টস থেকে। আমার খালু এর পরিচিত এক গার্মেন্টস-এ দিলাম। অরা ভালোই কাজ করল। ২৮ কেজি কাপড় থেকে ওরা আমাকে ১২০ টা বানায় দিলো। আর কয়েক্টা ব্ল্যাঙ্ক রাখলাম।

একটু নাম কামালাম। অনেকদুর আগায় গেলাম। আরেকজন যুক্ত হল আমাদের সাথে। সে বিনিয়োগ করলো সুদূর লন্ডন থেকে। আরো অনেক সাহায্য ও পেলাম উনার কাছ থেকে যা ভুলতে পারব না।
আর কেউ কাজ করে না ২-৩ জন ছাড়া। তাই সদস্য কমানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমার আসবাবপত্র দরকার নাই। ঠেলাগাড়ি হলেও চলবে। আজ আরো এগিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু বিনিয়োগ এর অভাবে চেয়ে ও পারছি না। কিচ্ছু করার নাই। যাই হোক।

গত ১৯-২০শে সেপ্টেম্বর তারিখে ATTIRE FIESTA নামে একটা মেলা তে অংশ গ্রহন করলাম আমাদের ব্রান্ড টাকে নিয়ে। মেলা তে তেমন সাড়া পাই নি তবে অনেক কিছু পেয়েছি। অনেক ব্র্যান্ড এর মালিকদের সাথে পরিচয়, আড্ডা, আলাপ, হাসি ঠাট্টা আরো কত কি? মেলা তে আমার মতে বিক্রি করার চাইতে ব্র্যান্ডিং টা কেই আমি প্রাধান্য দিয়েছি। কারন মেলার ১ দিন আগ পর্যন্ত আমার কাছে একটা পণ্য ও ছিল না আমার। তারপর ও এখনি.কম থেকে আর এদিক অদিক থেকে ৬৬ টা টিশার্ট আর ২৫ টা শার্ট নিয়ে নেমে পড়লাম, উদ্দেশ্য টার্গেট মার্কেটিং, এবং ব্র্যান্ড প্রোমোশন। যেভাবেই হোক। ভিজিটিং কার্ড ও করা হয় নি তবু কালার প্রিন্টিং করে টুকরো কাগজে নিজেদের সব কিছু জুড়ে দিলাম ডিজিটালি। ব্যানার বানালাম একটা বড় করে ৫’-৩’ সাইজ এর। সবার সাথে মিলেমিশে থাকলাম। ২ টা পণ্য বিক্রি হল, বাকী গুলো রয়ে গেলো। কিন্তু মজার ব্যাপার ২ দিনে ২ টা বড় অর্ডার পেয়েছি যার যোগ্য আমি কিনা জানি নাহ। কিন্তু অনেক খাটতে হয়েছে। এখনো চোখ খুলতে পারছি না। তবে গর্ব করে বলতে পারি পুরো মেলা এর সবচেয়ে ভাল কাপড় এর টিশার্ট ছিলো আমাদের।

যারা ছোটো ব্র্যান্ড ততটা নাম করতে পারছেন না বিজ্ঞাপনের অভাবে, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, মেলা আপনাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। আর এটাই আপনার পণ্য এর মান বাড়াতে পারে।
এবারের কিছু কথা তাদের জন্য বলছি যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন টিশার্ট এর। আমার মত হাজার হাজার মানুষ এই ব্যবসা এর সাথে জড়িত। আমি ই যে সব তা না। তবে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতেসি:

১.ডিজাইন - আকর্ষণীয় ডিজাইন নিয়ে কাজ করুন। মানুষ কিন্তু টিশার্ট একটা কারনেই কিনে থাকে আর তা হল ডিজাইন। ডিজাইন এর ব্যাপারে আমি আমার একটা নিয়ম ধরে হাটি, সেটি হল,
SICK =
S for Stylish,
I for Innovative,
C for Creative & Confident and
K for Knowledge.

২. কাপড় ও সেলাই – কাপড় ও সেলাই ভালো দিতে হবে তাহলে ভালো রেসপন্স পাবেন। কাপড়ের মান যাচাই করে নিন আগে। কাপড়ের জিএসএম কত তা জেনে নিন। ১৬০ এর উপরের জিএসএম এর কাপড় আমার চোখে অনেক ভাল। তবুও আমি ১৮০ কেই প্রাধান্য দেই।

৩. সাইজ – বিভিন্ন সাইজ এর করতে পারেন যা ভালো মনে করেন। সবি আপনার ইচ্ছা। তবে এশিয়ান, আমেরিকান, ইউরোপিয়ান সাইজ গুলা বেশি ভালো লোকাল এর চেয়ে। আমি ইউরোপিয়ান সাইজ করে থাকি। কেয়ার লেবেল এ অবশ্যি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ ব্যবহার করবেন।

৪. টার্গেট মার্কেটিং - কাদের কাছে বিক্রি করবেন তার একটা টার্গেট লিস্ট বানান কাজে দিবে। কারন সবাই সব ডিজাইন পড়বে না।

আর মনে আসছে না মনে পড়লে জানাবো।

এটা শুধু আমার নিজের জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা আর কিছু না। অনেক হোচট খেয়েছি। বোল্ড ফন্ট এর লিখা গুলো আমাকে অনে নেগেটিভ করেছে তাও পিছপা হই নি।

এই ব্যবসা করতে পারেন। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই একটা স্বপ্ন নিয়ে বস্লে হয় না লাগে প্রোপার প্ল্যানিং যা অত্যাবশ্যকীয়।